সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুল সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক

“সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুল”

সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুল একটি ক্যাথলিক মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর অবস্থান পাবনা জেলার, চাটমোহর উপজেলার, মথুরাপুর গ্রাম। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর হিসাবে সর্ব শ্রেণি পেশার মানুষের আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। অত্র অঞ্চলের প্রায় সহস্রাধিক ছেলে-মেয়ে এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। সকল ধর্মের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম-মর্যাদার সাথে এখানে শিক্ষণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। এজন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে তৎপর সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুল। ইতমধ্যে অগণিত শিক্ষার্থী এখানে পড়ালেখা করে আজ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তারা এখন পরিবার, সমাজ ও দেশের সেবায় নিয়োজিত।

শুরুর দিকে সুদূর গাজীপুর জেলার ভাওয়াল এলাকা হতে অভিবাসি খ্রীষ্টানদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তৎকালীন মিশনারী ফাদারগণ চাটমোহরের লাউতিয়া গ্রামে ছোট্ট একটি স্কুল নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দে মথুরাপুর গ্রামে ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠার পর লাউতিয়ার সেই ছোট্ট স্কুলটি ধর্মপল্লী আঙ্গিনায় স্থানান্তর করা হয়। সেই হিসেবে সেন্ট রীটাস্ স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল ধরা হয় ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দ। ১৯৯০ খ্রীষ্টাব্দে অত্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হয়।

  ১৯৭০ খ্রীষ্টাব্দে ৬ষ্ঠ শ্রেণি খোলার মধ্য দিয়ে সেন্ট রীটাস্ বিদ্যালয়ে হাই স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরবর্তী বছরগুলোতে অন্যান্য ক্লাসের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে থাকে। সরকারী অনুমোদন না থাকায় এই বিদ্যালয় থেকে ছেলে-মেয়েরা ১৯৮০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে নবম-দশম শ্রেণি এখানে অধ্যয়ন করে অন্য স্কুলের নামে এসএসসি পরীক্ষা লিখত।

১৯৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ফাদার কান্তন ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টায়, ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিস্টার মেরী অনিমা ও সেই সময়কার ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় সেন্ট রীটাস্ স্কুলটি হাই স্কুলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। একই বছরে ফাদার কান্তনের উদ্যোগে মিশন চত্বর থেকে হাই স্কুলটি চাটমোহর-পাবনা প্রধান সরকের পূর্বপাশে নব নির্মিত দ্বিতল ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এজন্য ফাদার কান্তনকে সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুলের রূপকার বা স্থাপন কর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৯৪ থেকে বর্তমানে সরকারী অনুমোদনে সেন্ট রীটাস্ হাই স্কুলটি শিক্ষা সেবা প্রদান করে আসছে। এই পথ পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটির হাই স্কুল শাখা ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে পালন করে ২৫ বছরের রজত জয়ন্তী। 

মথুরাপুর ধর্মপল্লীতে এস.এম.আর.এ. সংঘের সিস্টারগণ অত্র ধর্মপল্লীতে সেবাদানের শুরু’র দিক থেকেই স্কুলের শিক্ষাদানের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮০’র দশক হতে মাঝে কয়েকটি বৎসর বাদ দিয়ে সিস্টারগণ শুধুমাত্র শিক্ষকতা নয়, পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেন। প্রশাসনিক প্রদান হিসাবে এই দায়িত্ব অব্যাহত থাকে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ খ্রীষ্টাব্দ অবধি। এস.এম.আর.এ. সিস্টার সংঘের পক্ষ হতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন সি. মেরী খ্রীষ্টেল।  তার অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২৪ অক্টোবর ২০২৫ হতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে । বর্তমানে স্কুলটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের বিশপ মহোদয় কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ফাদার পিউস গমেজ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।     

উল্লেখ্য যে, শিক্ষা সেবায় মথুরাপুর ধর্মপল্লী বা মিশন তথা গোটা ক্যাথলিক খ্রীষ্ট মণ্ডলী’র অবদান সারা পৃথিবীতেই অনেক বেশী। এজন্যই কাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অত্যধিক। অভিভাবকরা মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাতে পারলে অত্যন্ত খুশি হয়। খ্রীষ্টান মিশনারী ফাদার-সিস্টার কর্তৃক পরিচালিত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়ম-শৃঙ্খলা, আচার-আচরণ, মানবিক গঠন, নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ, শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য, নৈতিকতা এবং জীবনমূখি শিক্ষার দিকে বেশি গুরুত্ত্বারোপ করা হয়। গড্ডালিকা প্রবাহে এসব প্রতিষ্ঠান গাঁ ভাসায় না। বরং স্রোতের বিপরীতে কিভাবে টিকে থাকতে হয় সেই শিক্ষা দান করাই এর পরম লক্ষ্য। রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের প্রধান তিনটি মিশনগুলো হলো- বোর্ণী, বনপাড়া ও মথুরাপুর।  এই ৩টি ধর্মপল্লী’র অধীনেই রয়েছে ৩টি হাই স্কুল। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই স্কুলগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অত্র এলাকার সার্বিক উন্নতিতে ও শিক্ষার আলো বিস্তারে এই তিনটি স্কুলই অত্যন্ত সফল ও স্বার্থক। 

পাবনা’র চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই মিশন স্কুল’টি অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় যুগের প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষা বিস্তারে আরও অবদান রেখে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য স্কুলটির মিশরারী কর্তৃপক্ষও বৃহত্তর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আশা রাখা যায়, বিগত দিনগুলোর ন্যায় অত্র অঞ্চলের আপামর জনগণ, সচেতন মহল, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় অত্র প্রতিষ্ঠানটি তার মূল লক্ষ্যে অবিচল থেকে শিক্ষা সেবায় অনন্য মাইল ফলক স্পর্শ করবে। 

স্বপ্ন(ভিশন)

শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও সু-শৃঙ্খল গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা।
শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন ও বৈশ্বিক যুগ-লক্ষণ অনুসারে প্রকৃত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।

স্বপ্ন(ভিশন)

শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করা।
শিক্ষার্থীদের আপন সংষ্কৃতি ও দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা।
শিক্ষার্থীদের আত্ম-মর্যাদা ও পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধে বেড়ে উঠতে সাহায্য করা।

স্বপ্ন(ভিশন)

শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতায় বেড়ে উঠতে সাহায্য করা।
শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা ও ভবিষ্যত বিনির্মানে সবোর্চ্চ অবদান রাখা।
“সকলের জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” নীতি অনুসরন করা।

আমাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা

বিগত কয়েক বছরে শিক্ষা, সহপাঠ কার্যক্রম এবং শৃঙ্খলায় আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং অংশগ্রহণই আমাদের উন্নতির প্রধান শক্তি।

উন্নত ফলাফলের হার
0 %
প্রতি শিক্ষার্থীর সহপাঠ কার্যক্রম অংশগ্রহণ
0 %
শিক্ষার্থী-শিক্ষক ইন্টারঅ্যাকশন বৃদ্ধি
0 %

“এভাবে শেখো যেন সারাজীবন বাঁচবে, আর বাঁচো যেন আগামীকালই শেষ দিন।”

শেখার কোনো শেষ নেই। প্রতিদিন আমরা নতুন কিছু শিখি, বিকশিত হই এবং আরও ভালো হতে চেষ্টা করি। সেন্ট রীটাস হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মিশন(কর্ম-প্রক্রিয়া)

  • শিক্ষা প্রশাসন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা।
  • পারস্পারিক (ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক) সহযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
  • শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া, পড়াশোনা ও উপস্থিতি নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
  • রুটিন মাফিক ল্যাব ও ব্যবহারিক ক্লাস এবং শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।    
  • শিক্ষার্থীদের অবস্থা ও সমস্যা অনুসারে সহায়ক গাইডেন্স ও ফলপ্রসু পন্থা অনুসরন করা।     
  • অভিভাবক সমাবেশসহ প্রয়োজনে যে-কোন সময়ে অভিভাবকদের সাথে মত-বিনিময় করা।
  • দেশপ্রেম ও আপন সংষ্কৃতির প্রতি ভালবাসা ও অনুরাগবৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। 
  •  
  • কো-ক্যারিকুলার, স্কাউট, গার্লস-গাইড ও ক্লাব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্ম-বিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা দান।
  • শিশু সুরক্ষানীতি ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমন্বয়ে ওয়াচ কমিটির কর্ম প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।
  • প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম

আমরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে পাঠদান পরিচালনা করি। প্রতিটি স্তরে অভিজ্ঞ শিক্ষক, সুষ্ঠু ক্লাসরুম পরিবেশ এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা (১ম–৫ম শ্রেণি)
মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণি)
বিজ্ঞান বিভাগ
মানবিক বিভাগ

“শিক্ষার উদ্দেশ্য মস্তিষ্ককে তথ্য দিয়ে ভরাট করা নয়; বরং মনকে উন্মুক্ত করে চিন্তা করতে শেখানো।”

আজকের বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। শিক্ষার্থীদের শুধু বই মুখস্থ করিয়ে ভালো ফলাফল করা নয়—তাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

সেন্ট রীটাস হাই স্কুলের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে আন্তরিকভাবে কাজ করেন। আমরা বিশ্বাস করি—সঠিক দিকনির্দেশনা, উপযুক্ত পরিবেশ এবং কঠোর পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের জীবনে সফলতা এনে দিতে পারে।

প্রধান শিক্ষক

সেন্ট রীটাস হাই স্কুল